তুরস্কে সহিংস আন্দোলনের জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়েপ এরদোগান। সোমবার (২৪ মার্চ) রাতে বিক্ষোভকারীরা ষষ্ঠ দিনের মতো বিক্ষোভ করেন। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। খবর বিবিসি
প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্তাম্বুলের মেয়র ইকরেম ইমামোগলুকে গত বুধবার দুর্নীতি দায়ে আটকের পর থেকেই দেশটিতে বিক্ষোভে নেমেছে হাজার হাজার মানুষ।
সোমবার প্রায় ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভের জন্য জড়ো হয়। রোববার রাতেও তারা বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভ দমাতে বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করার পরই পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়।
ইমামোগলুকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাকে মেয়র পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইমামোগলু। তবে এরদোগান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ইমামোগলুর পক্ষ নিয়ে সোমবার রাতেও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ইস্তাম্বুলের সিটি হলে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাদেরকে ঘিরে রাখে দাঙ্গা পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের পাশেই রাখা ছিল ওয়াটার গান, তবে রোববার রাতের মতো সংঘর্ষময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
এদিকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত ১১৩৩ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি টেলিভিশনে দেয়া এক বিবৃতিতে এরদোগান বিক্ষোভকারীদের ‘অশুভ’ আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে জনগণের শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্টে বিরোধী দলকে দায়ী করেছেন।
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে দেয়া ভাষণে এরদোগান বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভ বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে গত পাঁচদিন ধরে বিরোধী দল জঘন্য অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
সিএইচপি নেতা ওজগুর ওজেল সোমবার রাতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই বিক্ষোভ ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী পদক্ষেপ’।
এদিকে তুরস্কে ২০২৮ সালের প্রসিডেন্ট নির্বাচন রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) থেকে প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়ের জন্য মনোনীত হয়েছেন ইকরেম ইমামোগলু।